হাইপারলুপ ট্রেন হতে যাচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন উরন্ত ট্রেন। এটি হবে জাপানের বুলেট ট্রেনের চাইতে ৩.৫ গুন বেশি গতি সম্পন্ন। এর সর্বোচ্চ গতি হবে ঘন্টায় ১২২০ কিলোমিটার। যেটি সবচাইতে দ্রুতগতি সম্পন্য যাত্রীবাহী বিমানের চাইতে বেশি গতি সম্পন্য।
তার মানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগবে মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিট।
কনসেপ্টঃ
বর্তমানে পৃথিবীর সব থেকে বড় ধনী স্পেস-এক্স এবং টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক ২০১২ সালে তার দেয়া একটি বক্তৃতায় এই হাইপারলুপ এর প্রথম ধারনা দেন এবং এ সম্পর্কিত ৫৮ পেজের একটি পেপার প্রকাশ করেন। এই বক্তৃতায় উনি এমন একটি ব্যবস্থার কথা বলেন যেখানে একটি বায়ুশূন্য টিউবের মধ্যে দিয়ে ভাসমান অবস্থায় খুব দ্রুত যান চলাচল করবে। তিনি বলেন তার এই কনসেপ্টটি ওপেন সোর্স কনসেপ্ট হিসেবে থাকবে।

কিভাবে হাইপারলুপের গতি এত বেশিঃ
আমাদের সচরাচর ব্যবহৃত যানবাহনগুলো দুটি কারণে কাঙ্খিত গতি অর্জন করতে পারে না। একটি হচ্ছে মাটির সাথে চাকার ঘর্ষণ এবং আরেকটি হচ্ছে গাড়ি কিংবা বিমানের সামনে থাকা বাতাসের বাধার কারনে।
কেমন হবে যদি কোন বাহনে এই ঘর্ষণ এবং বাতাসের বাধা না থাকে? হ্যাঁ হাইপারলুপ ট্রেনে এই দুটি সমস্যারই সমাধান করা হয়েছে।
- এই ট্রেনের চাকা কোন কিছুর সাথে স্পর্শ করা থাকবে না। তার মানে ট্রেনটি মাটির কিছুটা উপরে ভাসমান অবস্থায় থাকবে।
- আর এই ট্রেনের সামনে কোন বাতাসও থাকবে না তার কারণ ট্রেনটি চলবে একটি বাতাস বিহীন লোহার টিউবের ভেতর দিয়ে। যে টিউবের ভেতর থেকে পাম্পের মাধ্যমে সব বাতাস বের করে দেয়া হবে।
টেকনোলজিঃ
এই ট্রেনে দুটি টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হল ম্যাগনেটিক ল্যাভিটেসন টেকনোলজি বা ম্যাগল্যাব এবং দ্বিতীয়টি হল ভ্যাকিউম টিউব।
ম্যাগনেটিক ল্যাভিটেসনঃ এ ম্যাগনেটিক ল্যাভিটেসন টেকনোলজিতে দুই ধরনের চুম্বক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটি চুম্বক রেল লাইনের সাথে বিকর্ষণ করে ট্রেনকে লাইনের কিছুটা উপরে ভাসমান অবস্থায় ধরে রাখে এবং অন্যটি এ ভাসমান ট্রেনকে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে পর্যাপ্ত ধাক্কা প্রদান করে।

ভ্যাকিউম টিউবঃ ভ্যাকিউম টিউব টেকনোলজিতে সম্পূর্ণ ট্রেন একটি বিশাল আকৃতির লোহার টিউবের মধ্যে রেখে টিউবটি থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দেয়া হয়। এই টিউবে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরে পরে বাতাস বের করে দেয়ার জন্য মোটর থাকবে। যার ফলে টিউবের মধ্যেকার ৯৯.৯ শতাংশ বাতাস বের করে দেয়া সম্ভব হবে। পরবর্তীতে এই ট্রেনটিকে ঐ টিউবের মধ্য দিয়ে চালানো হবে। এই টিউবের ভেতরের বায়ুচাপ পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে ২ লক্ষ ফিট উপরের বায়ুচাপের সমান হবে। আকাশের এত উপর দিয়ে কোন বিমান উড়তে পারে না। কারণ বিমানের ইঞ্জিনের যে পরিমাণ বাতাস দরকার এত উচ্চতায় সে বাতাস থাকে না। আর বিমান নিচু দিয়ে উড়ার কারণে বাতাসের বাধার সম্মুখীন হয়। যার ফলে খুব বেশি গতি তুলতে পারে না।
হাইপারলুপের বর্তমান অবস্থাঃ

বর্তমানে বেশ কিছু বড় বড় কোম্পানি হাইপারলুপ কে বাস্তব করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে Hyperloop Transportation Technologies এবং Virgin Hyperloop. এই দুই কম্পানি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি হাইপারলুপ ট্রেন এবং ট্রেন চলাচলের ট্র্যাক বা টিউব তৈরি করেছে এবং সেগুলোর বেশ কিছু ফুল স্কেল টেস্টো সম্পন্ন করে ফেলেছে।
ভার্জিন হাইপারলুপ ২০২০ এর নভেম্বরে হাইপারলুপের ভেতর যাত্রী সহকারে একটি সাকসেসফুল টেস্ট ড্রাইভ সম্পন্ন করেছে। দুবাই থেকে আবুধাবি পর্যন্ত একটি হাইপারলুপ ট্র্যাক তৈরি করার কাজ করা হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ হলে এই দুই শহরের মধ্যকার দুই ঘণ্টার গাড়ির জার্নি কমিয়ে মাত্র ১২ মিনিটে আনা সম্ভাব হবে।
ভারতে হাইপারলুপঃ

তবে পৃথিবীর প্রথম হাইপারলুপ ব্যবহার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। ২০১৯ সালে ভারত ভার্জিন হাইপারলুপের সাথে একটি চুক্তি করে। যেখানে ভার্জিন হাইপারলুপকে পুনে থেকে মুম্বাই পর্যন্ত একটি হাইপারলুপ তৈরি করতে বলা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এই প্রজেক্টের জন্য ভার্জিন হাইপারলুপকে ইন্ডিয়া ১০ বিলিয়ন ডলার প্রদান করবে। এছাড়াও বিভিন্ন কম্পানি ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি হাইপারলুপ নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আশা করা যাচ্ছে সামনের ১০ বছরের মধ্যে আমরা এই হাইপারলুপ টেকনোলজিটিকে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হিসেবে দেখতে পাবো।

Osadharon
Ata ki Bangladesh ar
Kub sundor
I am a brilliant student,, ——arent i?
Your Number
এটা কি আসলে হবে
আমাদের দেশে ও একটা হাইপারলুপ দরকার
ইতিহাসে কয়েকটি স্সট উত্তর যানতে চাই
It’s interesting….. khub apekhay roilm
Ka
Aca apner bari kotaie?
ai train obilombe sovvota ke agiye niye jabe. prithibike akta noton mattra ane dibe.
Ata ki Bangladesh ar
Mustakim
123654789