জুপিটার বা বৃহস্পতি গ্রহের লাল রঙের স্পট, এটি আসলে কি? প্ল্যানেট জুপিটার বা বাংলায় বৃহস্পতি আমাদের সোলার সিস্টেমের সবচেয়ে বড় গ্রহ। যার জন্ম হয়েছিল আজ থেকে প্রায় সারে চারশো কোটি বছর আগে। এবং এটা আমাদের সৌরজগতে তৈরি সর্ব প্রথম গ্রহ। এটি সূর্যের দিক থেকে আমাদের সৌরজগতের পঞ্চম নাম্বার অবস্থানে আছে। এই জুপিটারের ব্যাস এগারোটা পৃথিবীর দৈর্ঘ্যের সমান। আর এর ভর ৩০০টি পৃথিবীর সমান। এই বৃহস্পতির ব্যাস ১ লক্ষ ৪২ হাজার কিলোমিটার।
দ্যা গ্রেট রেড স্পটঃ

লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন জুপিটার বা বৃহস্পতি গ্রহের লাল রঙের গোল স্পট বা বৃত্ত দেখা যায়। এটি আসলে বিশাল আকৃতির একটি ঘূর্ণিঝড় যা শত শত বছর ধরে একটানা চলছে। যেটার নাম দেয়া হয়েছে দ্যা গ্রেট রেড স্পট। আজ থেকে ৩৫০ বছর আগে টেলিস্কোপ দিয়ে তোলা ছবিতেও এই দ্য গ্রেট রেড স্পট এর ছবি দেখা যায়। এই ঝরের সাইজ এত বড় যে এর ভিতর পুরো পৃথিবী আটানো যাবে। এই দ্যা গ্রেট রেড স্পট এর বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৪০০ মাইল বা ৬৪৪ কিলোমিটার এর বেশি। কিন্তু ঠিক কবে এই ঝর শুরু হয়েছে তা সঠিক কেউ জানে না। তবে ইদানিংকার কিছু অবজারভেশনে দেখা যাচ্ছে এই রেড স্পটের সাইজ পূর্বের তুলনায় অনেক ছোট হয়ে এসেছে।
নিরন্তর ঝড়ঃ
পুরো বৃহস্পতি গ্রহ জুরে সব সময় ঝড় হতে থাকে। যে ঝড় কখনোই থামেনা। বৃহস্পতি গ্রহ (উপরের চিত্র) লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন বিভিন্ন রঙের ঝড় বিভিন্ন দিকে পুরো গ্রহ জুরে সব সময় চলতে থাকে। কিছু রং এর ঝড় বাম থেকে ডানে এবং কিছু রঙের ঝড় ডান থেকে বামে সবসময় চলতেই থাকে।
ঝড় না থামার কারণঃ
এত ঝড়ের মুল কারন আসলে জুপিটারের কোন শক্ত মাটি নেই। মানে এটি পুরোপুরি গ্যাস দিয়ে তৈরি। এমনকি এর একেবারে মাঝখানের সেন্টার কোরও তৈরি হয়েছে লিকুইড দিয়ে। পৃথিবীর ঝড় যেমন মাটি কিংবা পাহাড়ের সাথে ধাক্কা লেগে গতি কমে যায়, কিন্তু প্ল্যানেট জুপিটারের কোন মাটি নেই বিধায় ঝড় কোথাও বাধা পায় না। যার ফলে ঝড় অনবরত চলতে থাকে। এই প্লানেট বা গ্রহের মূল উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাস। এত বড় হওয়া সত্ত্বেও এটি নিজ কক্ষপথে প্রচণ্ড বেগে ঘোরে। যেখানে পৃথিবীর একবার ঘুরতে সময় লাগে ২৪ ঘন্টা সেখানে বৃহস্পতি বা জুপিটারের একবার ঘুরতে সময় লাগে মাত্র ৯ ঘন্টা।
বৃহস্পতি গ্রহেরও চারপাশেও শনির মত রিং আছেঃ
আরেকটি মজার ব্যাপার হলো শনি গ্রহের মতো এই বৃহস্পতি গ্রহেরও চারপাশে রিং আছে। এই রিংটি অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা দিয়ে তৈরি, যার ফলে এটি চোখে পড়া খুবই কষ্টসাধ্য। এমনকি এই রিংয়ের ব্যাপারে পূর্বে বিজ্ঞানিরাও কেউ জানত না। পরে ১৯৭৯ সালে নাসার তৈরি ভয়েজার-১ মহাকাশ যানটি বৃহস্পতির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই রিং সর্বপ্রথম দেখতে পায়। এ পর্যন্ত মোট নয়টি স্পেস ক্রাফট জুপিটার বা বৃহস্পতি গ্রহকে কে ভিজিট করেছে।
এই জুপিটার বা বৃহস্পতি গ্রহ এর উপরিভাগের তাপমাত্রা খুবই কম -১৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিন্তু এর কেন্দ্রের তাপমাত্রা আবার অত্যন্ত বেশি প্রায় ২৪০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যেটা সূর্যের উপরিভাগের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি। আর এই জুপিটারের রয়েছে কমপক্ষে ৬৭ টি চাঁদ। বিশেষ করে এ চাঁদ গুলোর মধ্যে রয়েছে GANYMED নামের একটি চাঁদ, যা আমাদের সৌরজগতের চাঁদ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। এটি এতটাই বড় যে এর সাইজ বুধ গ্রহের থেকেও বড়। এমনকি পৃথিবী থেকে খালি চোখেও এটি দেখা সম্ভব।

ঝড় না থামার কারণঃ
বৃহস্পতি গ্রহেরও চারপাশেও শনির মত রিং আছেঃ
খুব সুন্দর লিখেছেন, লেখাটা পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
Tnx
Thank you.
আমার অজানা তথ্য গুলো জানতে পারছি।আপনাদের এই appsapps থেকে