হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন, আমাদের দেহের অর্ধেকের বেশি ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি।
আমাদের শরীরের ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি বলা যায় কারন এক্সপার্টদের মতে আমাদের দেহ ৩৯ লক্ষ কোটি ব্যাকটেরিয়া এবং ৩০ লক্ষ কোটি কোষ দিয়ে তৈরি। গবেষকদের মতে আমরা ব্যাকটেরিয়া বেশি মানুষ কম। আমাদের চারিপাশ মাইক্রো-অর্গানিজম দিয়ে ঘেরা। যদিও আমরা খালি চোখে তাদের দেখতে পাই না। মাইক্রো-অর্গানিজম হচ্ছে সবচেয়ে ছোট জীব। তারা সব জায়গায় আছে মাটিতে, পানিতে, গাছে, পানির কলে, আপনার ফোনে, কিবোর্ডে, আপনার বালিশে এবং আপনার দেহে। আমাদের শুধু বাহিরেই নয় আমাদের দেহের ভিতরেও বসবাস করে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া। আমাদের শরীরে যে পরিমাণে কোষ আছে তার চেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া আছে। ব্যাকটেরিয়া একটি পেন্সিলের আগার চাইতেও ১০০০X ছোটো। আমরা এই ব্যাকটেরিয়া দেখার জন্য মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করি। ব্যাকটেরিয়া একেকটি একেক ধরনের যেমনঃ- কিছু আছে লম্বা কিছু গোলাকৃতি ইত্যাদি।
এখন কথা হচ্ছে তাহলে আমরা বেঁচে আছি কিভাবে?
এরাই কি আমাদের অসুস্থতার পিছনে দায়ী? এরা কিভাবে ঢুকলো? আর এরা আমাদের দেহের সাথে কি বা করে?
যখন আমরা কোন ব্যাকটেরিয়ার কথা শুনি, তখন আমাদের সবার আগে মনে হয় অসুস্থতা। আসলে বেশিরভাগ মিক্রো-অর্গানিজম বা ব্যাকটেরিয়া মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। ব্যাকটেরিয়া আমাদের সারা দেহে আছে। আমাদের চামড়ার উপরে, চামড়ার ভিতরে, নাকের ভিতরে, কানের ভিতরে, চোখে, পেটে, মুখে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া আছে আমাদের নারি-ভুরিতে। গরে ১০০ কোটি ব্যাকটেরিয়া সেখানে আছে। এরা এখানেই বসবাস করে। তার মানে এরা মানুষের কোন ক্ষতি করে না। যদি কখনো কোন মাইক্রো অর্গানিজম মানুষের ক্ষতি করে তখন তাকে আমরা বলি সংক্রমণ।
এরা আসলে আমাদের দেহে কি কাজ করে?
ব্যাকটেরিয়া আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। ব্যাকটেরিয়া যেগুলো আমাদের চামড়া মুখ এবং নাকে বসবাস করে, তারা আসলে বাহিরের কোন ব্যাকটেরিয়া যেন ভিতরে না আসে সেই জন্য বাহিরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সাথে ফাইট করে। এই ব্যাকটেরিয়া গুলো গার্ডের মত কাজ করে। যাতে কোন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আমাদের দেহে প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করতে না পারে। আর আমাদের যকৃত বা নারি-ভুরিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া আমাদের হজমে সাহায্য করে। এই ব্যাকটেরিয়া গুলো এমন কিছু ভিটামিন তৈরি করে যা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেমন ভিটামিন B12 এবং K. এই ভিটামিন গুলো এইসব ব্যাকটেরিয়া ছাড়া আমাদের শরির উৎপাদন করতে পারেনা।
আমাদের এ নারি-ভুরিতে প্রায় ১০০০ ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। যদিও ব্যাকটেরিয়া হেল্পফুল এবং কোন ক্ষতি করে না, তবুও কিছু কিছু সময় কিছু কিছু কারণে ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যেমনঃ- আমাদের ত্বকের উপরে বসবাস করা ব্যাকটেরিয়া সাধারণত আমাদের ভালো করে। কিন্তু কোন কারণে যদি চামড়ায় কেটে যায় তাহলে সেই কাটা দিয়ে এই ব্যাকটেরিয়া গুলো শরীরের ভেতরে চলে আসতে পারে, যেখানে তাদের থাকার কথা নয়। এই কারণে মাঝে মধ্যে ক্ষত স্থানে ইনফেকশন হতে পারে কিংবা লাল হয়ে যেতে পারে কিংবা ব্যথা অনুভব হতে পারে।
সাধারণত মানুষের দেহে সুষম অনুপাতে ব্যাকটেরিয়া থাকে। কিন্তু এই ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা খুব কম কিংবা খুব বেশি হয়ে গেলে নানান ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাকস্থলীর বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন কাজ করে থাকে। আর এগুলোর যার যে পরিমানে থাকার কথা তার থেকে কম বেশি হয়ে গেলে নানান রকম সমস্যা হতে পারে। যেমন, কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া আছে সেগুলোর অনুপাত যদি বেশি হয়ে যায় তাহলে ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। আবার এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া আছে যেগুলোর পরিমাণ বেশি হলে মানুষের মাত্রাতিরিক্ত ওজন বেড়ে যেতে পারে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে এই ব্যাকটেরিয়া ছাড়া আবার আমরা বেঁচে থাকতে পারবো না।
তাই পরের শেষে বলা যায়ঃ
যেহেতু আমাদের শরীরের ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি সুতরাং সুসময় অনুপাতের ব্যাকটেরিয়া মানুষকে সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরী। আর এই সুষম অনুপাত ঠিক রাখার জন্য আমাদের অবশ্যই তৈলাক্ত এবং চিনিযুক্ত খাবার পরিহার করে শাকসবজি জাতীয় খাবার এবং ফলমূল জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। এবং কোনভাবেই ডক্টরের নির্দেশ ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাওয়া যাবেনা। সব সময় আপনার প্লেট কে বিভিন্ন শাকসবজি এবং ফলমূল দিয়ে রাঙ্গিয়ে রাখবেন। ভালো খাবেন তাহলে ব্যাকটেরিয়ার অনুপাত ভালো থাকবে এবং আপনি সুস্থ থাকবেন।
ধন্যবাদ।
ফেসবুক fb.com/dss.snivertech

Aro update assembly na keno
Plz post of new science and Biology upload. Your post is so excited
nice
আমাদের এই তথ্য দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ আশা করি আরো নতুন নতুন তথ্য পাবো ✌
Thanks
Good
লেনদেন
হিসাববিজ্ঞান
Nice
লেনদেন